কুরআনের চ্যালেঞ্জ: সকল আয়াত ও হাদীসের বিষায় ভিত্তিক
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
(পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি)
১. কুরআনে চ্যালেঞ্জ সংক্রান্ত আয়াতসমূহ (সকল স্থান)
প্রথম চ্যালেঞ্জ: সমগ্র কুরআনের অনুরূপ আনার চ্যালেঞ্জ
১. সূরা আত-তূর (৫২:৩৩-৩৪):
أَمْ يَقُولُونَ تَقَوَّلَهُ ۚ بَل لَّا يُؤْمِنُونَ . فَلْيَأْتُوا بِحَدِيثٍ مِّثْلِهِ إِن كَانُوا صَادِقِينَ
অনুবাদ: "না তারা বলে যে, তিনি (রাসূল) এটি নিজে রচনা করেছেন? বরং তারা ঈমানই আনে না। যদি তারা সত্যবাদী হয় তবে তারা এর মত কোনো বাণী নিয়ে আসুক।"
২. সূরা আল-ইসরা (১৭:৮৮):
قُل لَّئِنِ ٱجْتَمَعَتِ ٱلْإِنسُ وَٱلْجِنُّ عَلَىٰٓ أَن يَأْتُوا۟ بِمِثْلِ هَـٰذَا ٱلْقُرْءَانِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِۦ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا
অনুবাদ: "বলুন: যদি মানব ও জিন এই কুরআনের অনুরূপ কিছু আনয়নের জন্য একত্রিত হয়, তারাও এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।"
দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ: দশ সূরার অনুরূপ আনার চ্যালেঞ্জ
৩. সূরা হুদ (১১:১৩):
أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ ۖ قُلْ فَأْتُوا۟ بِعَشْرِ سُوَرٍ مِّثْلِهِۦ مُفْتَرَيَـٰتٍ وَٱدْعُوا۟ مَنِ ٱسْتَطَعْتُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ
অনুবাদ: "না তারা বলে যে, তিনি এটি মিথ্যা রচনা করেছেন? বলুন: তোমরাও এর মত মিথ্যা রচিত দশটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পারো ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।"
তৃতীয় চ্যালেঞ্জ: একটি সূরার অনুরূপ আনার চ্যালেঞ্জ
৪. সূরা আল-বাকারা (২:২৩):
وَإِن كُنتُمْ فِى رَيْبٍۢ مِّمَّا نَزَّلْنَا عَلَىٰ عَبْدِنَا فَأْتُوا۟ بِسُورَةٍۢ مِّن مِّثْلِهِۦ وَٱدْعُوا۟ شُهَدَآءَكُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ إِن كُنتُمْ صَ~ٰدِقِينَ
অনুবাদ: "আর যদি তোমরা আমাদের বান্দার (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি যা নাযিল করেছি তা নিয়ে সন্দেহে থাক, তবে তোমরা এর মত একটি সূরা রচনা করো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাহায্যকারীদের ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।"
৫. সূরা ইউনুস (১০:৩৮):
أَمْ يَقُولُونَ ٱفْتَرَىٰهُ ۖ قُلْ فَأْتُوا۟ بِسُورَةٍ مِّثْلِهِۦ وَٱدْعُوا۟ مَنِ ٱسْتَطَعْتُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ
অনুবাদ: "না তারা বলে যে, তিনি এটি রচনা করেছেন? বলুন: তোমরাও এর মত একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পারো ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।"
৬. সূরা আল-বাকারা (২:২৪): (চ্যালেঞ্জের পর সতর্কবাণী)
فَإِن لَّمْ تَفْعَلُوا۟ وَلَن تَفْعَلُوا۟ فَٱتَّقُوا۟ ٱلنَّارَ ٱلَّتِى وَقُودُهَا ٱلنَّاسُ وَٱلْحِجَارَةُ ۖ أُعِدَّتْ لِلْكَـٰفِرِينَ
অনুবাদ: "অতঃপর যদি তোমরা না করো, এবং তোমরা কখনোই করবে না, তবে সে আগুন থেকে বেঁচে থাকো যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যা কাফিরদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।"
২. কুরআনের মু‘জিযা নির্দেশক অন্যান্য আয়াত
৭. সূরা আল-‘আনকাবুত (২৯:৪৮)
আরবি:
وَمَا كُنتَ تَتْلُو مِن قَبْلِهِۦ مِن كِتَابٍ وَلَا تَخُطُّهُۥ بِيَمِينِكَ ۖ إِذًا لَّٱرْتَابَ ٱلْمُبْطِلُونَ
বাংলা অনুবাদ:
"আপনি এর পূর্বে কোনো কিতাব পাঠ করতেন না এবং আপনার ডান হাত দ্বারা তা লিখতেনও না; যদি তা করতেন তবে মিথ্যাবাদীরা সন্দেহ পোষণ করত।"
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা: এই আয়াত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মী (অনিরক্ষর) হওয়ার প্রমাণ দেয়, যা কুরআনের অলৌকিকত্বের একটি দিক।
৮. সূরা আন-নাহল (১৬:১০৩)
আরবি:
وَلَقَدْ نَعْلَمُ أَنَّهُمْ يَقُولُونَ إِنَّمَا يُعَلِّمُهُۥ بَشَرٌ ۗ لِّسَانُ ٱلَّذِى يُلْحِدُونَ إِلَيْهِ أَعْجَمِىٌّ وَهَـٰذَا لِسَانٌ عَرَبِىٌّ مُّبِينٌ
বাংলা অনুবাদ:
"আর নিশ্চয় আমরা জানি যে তারা বলে: ‘একে তো একজন মানুষ শিক্ষা দেয়।’ যার প্রতি তারা ইঙ্গিত করে তার ভাষা অ-আরব, আর এটি (কুরআন) তো স্পষ্ট আরবি ভাষায়।"
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা: কাফিররা দাবি করত যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন বিদেশী (সালমান ফারসী বা অন্য কেউ) থেকে কুরআন শিখেছেন, কিন্তু কুরআনের ভাষা বিশুদ্ধ আরবি যা ঐ বিদেশীর জানা ছিল না।
৯. সূরা আন-নিসা (৪:৮২)
আরবি:
أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ ٱلْقُرْءَانَ ۚ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِندِ غَيْرِ ٱللَّهِ لَوَجَدُوا۟ فِيهِ ٱخْتِلَـٰفًا كَثِيرًا
বাংলা অনুবাদ:
"তারা কি কুরআন সম্পর্কে গভীর চিন্তা-ভাবনা করে না? যদি এটি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক বৈপরীত্য পেত।"
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা: কুরআনের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব বা স্ববিরোধিতা নেই, যা এর ঐশ্বরিক উৎসের প্রমাণ।
১০. সূরা ফুসসিলাত (৪১:৫৩)
আরবি:
سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الْآفَاقِ وَفِي أَنفُسِهِمْ حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ
বাংলা অনুবাদ:
"শীঘ্রই আমরা তাদেরকে দিগন্তে (বিশ্বজগতে) ও তাদের নিজেদের মধ্যে আমাদের নিদর্শনসমূহ দেখাব, যাতে তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে এটি (কুরআন) সত্য।"
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা: মহাবিশ্ব ও মানুষের সৃষ্টিতে আল্লাহর নিদর্শনসমূহ কুরআনের সত্যতা প্রমাণ করে।
১১. সূরা আল-কামার (৫৪:১৭)
আরবি:
وَلَقَدْ يَسَّرْنَا ٱلْقُرْءَانَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍ
বাংলা অনুবাদ:
"আর নিশ্চয় আমি কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি; অতএব আছে কি কোনো উপদেশ গ্রহণকারী?"
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা: এই আয়াতটি সূরা আল-কামারে ৪ বার পুনরাবৃত্তি হয়েছে (আয়াত ১৭, ২২, ৩২, ৪০)।
১২. সূরা ইউসুফ (১২:২)
আরবি:
إِنَّا أَنزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَّعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ
বাংলা অনুবাদ:
"নিশ্চয় আমি এটি (কুরআন) আরবি ভাষায় নাযিল করেছি, যাতে তোমরা বুঝতে পার।"
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা: কুরআন আরবি ভাষায় নাযিল হয়েছে কারণ এটি ছিল রাসূলের ও তাঁর প্রথম শ্রোতাদের ভাষা।
১৩. সূরা আয-যুমার (৩৯:২৭)
আরবি:
وَلَقَدْ ضَرَبْنَا لِلنَّاسِ فِي هَـٰذَا ٱلْقُرْءَانِ مِن كُلِّ مَثَلٍ لَّعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ
বাংলা অনুবাদ:
"আর নিশ্চয় আমি মানুষের জন্য এই কুরআনে সর্বপ্রকার দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।"
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা: কুরআনে বহু উদাহরণ ও উপমা রয়েছে যা মানুষকে বুঝতে ও শিক্ষা গ্রহণে সহায়তা করে।
১৪. সূরা আল-কাহফ (১৮:৫৪)
আরবি:
وَلَقَدْ صَرَّفْنَا فِي هذَا ٱلْقُرْءَانِ لِلنَّاسِ مِن كُلِّ مَثَلٍ ۚ وَكَانَ ٱلْإِنسَـٰنُ أَكْثَرَ شَىْءٍ جَدَلًا
বাংলা অনুবাদ:
"আর নিশ্চয় আমি এই কুরআনে মানুষের জন্য সর্বপ্রকার দৃষ্টান্ত বিবৃত করেছি; আর মানুষ অধিকাংশ বস্তু থেকেই বেশি বিতর্কপ্রিয়।"
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা: মানুষ যুক্তি-তর্ক করতে পছন্দ করে, তাই কুরআনে বিভিন্ন দৃষ্টান্তের মাধ্যমে সত্য পরিষ্কার করা হয়েছে।
১৫. সূরা আল-ইসরা (১৭:৯)
আরবি:
إِنَّ هَـٰذَا ٱلْقُرْءَانَ يَهْدِى لِلَّتِى هِىَ أَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ ٱلْمُؤْمِنِينَ ٱلَّذِينَ يَعْملونَ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا كَبِيرًا
বাংলা অনুবাদ:
"নিশ্চয় এই কুরআন এমন পথের দিকে পরিচালিত করে যা সবচেয়ে সরল এবং মুমিনদের, যারা সৎকর্ম করে, সুসংবাদ দেয় যে তাদের জন্য আছে মহাপুরস্কার।"
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা: কুরআন সরলতম পথ দেখায় এবং সৎকর্মশীলদের জন্য সুসংবাদবাহী।
১৬. সূরা আল-হিজর (১৫:৯)
আরবি:
إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا ٱلذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُۥ لَحَـٰفِظُونَ
বাংলা অনুবাদ:
"নিশ্চয় আমি এ উপদেশ (কুরআন) নাযিল করেছি এবং নিশ্চয় আমি এর সংরক্ষক।"
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা: আল্লাহ নিজে কুরআনের হেফাজতের দায়িত্ব নিয়েছেন, তাই এটি বিকৃতির হাত থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ।
১৭. সূরা আশ-শু‘আরা (২৬:১৯২-১৯৫)
আরবি:
وَإِنَّهُۥ لَتَنزِيلُ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ . نَزَلَ بِهِ ٱلرُّوحُ ٱلْأَمِينُ . عَلَىٰ قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ ٱلْمُنذِرِينَ . بِلِسَانٍ عَرَبِىٍّ مُّبِينٍ
বাংলা অনুবাদ:
"এবং নিশ্চয় এটি (কুরআন) বিশ্বজগতের প্রতিপালকের নিকট থেকে অবতীর্ণ। এটা নিয়ে অবতরণ করেছেন বিশ্বস্ত রূহ (জিবরাঈল)। আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীগণের অন্তর্ভুক্ত হন। স্পষ্ট আরবি ভাষায়।"
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা: কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে, জিবরাঈলের মাধ্যমে, রাসূলের হৃদয়ে, স্পষ্ট আরবি ভাষায় নাযিল হয়েছে।
১৮. সূরা আয-যুখরুফ (৪৩:৩-৪)
আরবি:
إِنَّا جَعَلْنَـٰهُ قُرْءَٰنًا عَرَبِيًّا لَّعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ . وَإِنَّهُۥ فِىٓ أُمِّ ٱلْكِتَـٰبِ لَدَيْنَا لَعَلِىٌّ حَكِيمٌ
বাংলা অনুবাদ:
"নিশ্চয় আমি এটিকে আরবি কুরআন করেছি, যাতে তোমরা বুঝতে পার। আর নিশ্চয় এটি মাতৃগ্রন্থে (লাওহে মাহফুজে) আমার নিকট মর্যাদাশীল, প্রজ্ঞাময়।"
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা: কুরআন লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত ছিল এবং তারপর আরবি ভাষায় নাযিল হয়েছে।
১৯. সূরা ইয়াসীন (৩৬:৬৯-৭০)
আরবি:
وَمَا عَلَّمْنَـٰهُ ٱلشِّعْرَ وَمَا يَنۢبَغِى لَهُۥٓ ۚ إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ وَقُرْءَانٌ مُّبِينٌ . لِّيُنذِرَ مَن كَانَ حَيًّا وَيَحِقَّ ٱلْقَوْلُ عَلَى ٱلْكَـٰفِرِينَ
বাংলা অনুবাদ:
"আর আমি তাকে (রাসূলকে) কবিতা শিক্ষা দিইনি এবং তা তার জন্য শোভনীয়ও নয়। এটা তো কেবল উপদেশ ও স্পষ্ট কুরআন। যাতে তিনি সতর্ক করেন প্রত্যেক জীবিত ব্যক্তিকে এবং যাতে কাফিরদের বিরুদ্ধে সত্য প্রতিপন্ন হয়।"
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা: কুরআন কবিতা নয়, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট বাণী।
২০. সূরা ছোয়াদ (৩৮:২৯)
আরবি:
كِتَـٰبٌ أَنزَلْنَـٰهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِّيَدَّبَّرُوٓا۟ ءَايَـٰتِهِۦ وَلِيَتَذَكَّرَ أُو۟لُوا۟ ٱلْأَلْبَـٰبِ
বাংলা অনুবাদ:
"(এটি) এক বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ গভীরভাবে চিন্তা করে এবং যাতে বুদ্ধিমানগণ উপদেশ গ্রহণ করে।"
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা: কুরআন বরকতময় গ্রন্থ যা গভীর চিন্তা-ভাবনা ও উপদেশ গ্রহণের জন্য।
২১. সূরা আল-হাক্কাহ (৬৯:৪০-৪৩)
আরবি:
لَقَوْلُرَسُولٍ كَرِيمٍ . وَمَا هُوَ بِقَوْلِ شَاعِرٍ ۚ قَلِيلًا مَّا تُؤْمِنُونَ . وَلَا بِقَوْلِ كَاهِنٍ ۚ قَلِيلًا مَّا تَذَكَّرُونَ . تَنزِيلٌ مِّن رَّبِّ الْعَالَمِينَ
বাংলা অনুবাদ:
"নিশ্চয় এটি এক সম্মানিত রাসূলের (জিবরাঈলের) আনীত বাণী। আর এটা কোনো কবির কথা নয়; তোমরা অল্পই বিশ্বাস কর। আর না এটা কোনো জ্যোতিষীর কথা; তোমরা অল্পই উপদেশ গ্রহণ কর। এটা বিশ্বজগতের প্রতিপালকের নিকট থেকে অবতীর্ণ।"
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা: কুরআন না কবিতা, না জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত বাণী।
২২. সূরা আত-তাকভীর (৮১:১৯-২১)
আরবি:
إِنَّهُۥ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ . ذِى قُوَّةٍ عِندَ ذِى ٱلْعَرْشِ مَكِينٍ . مُّطَاعٍ ثَمَّ أَمِينٍ
বাংলা অনুবাদ:
"নিশ্চয় এটি এক সম্মানিত রাসূলের (জিবরাঈলের) আনীত বাণী। যিনি আরশের মালিকের নিকট শক্তিশালী, মর্যাদাবান। সেখানে (আসমানে) আনুগত্যপ্রাপ্ত, বিশ্বস্ত।"
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা: জিবরাঈল ফেরেশতা আল্লাহর নিকট উচ্চ মর্যাদার অধিকারী এবং তিনি আল্লাহর বাণী অবিকলভাবে পৌঁছে দেন।
২৩. সূরা আন-নামল (২৭:৬)
আরবি:
وَإِنَّكَ لَتُلَقَّى ٱلْقُرْءَانَ مِن لَّدُنْ حَكِيمٍ عَلِيمٍ
বাংলা অনুবাদ:
"আর নিশ্চয় আপনি কুরআন প্রাপ্ত হচ্ছেন পরম প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞের কাছ থেকে।"
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা: কুরআনের উৎস আল্লাহ যিনি পরম প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ।
২৪. সূরা আয-যুমার (৩৯:৪১)
আরবি:
إِنَّآ أَنزَلْنَا عَلَيْكَ ٱلْكِتَـٰبَ لِلنَّاسِ بِٱلْحَقِّ ۖ فَمَنِ ٱهْتَدَىٰ فَلِنَفْسِهِۦ ۖ وَمَن ضَلَّ فَإِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيْهَا ۖ وَمَآ أَنتَ عَلَيْهِم بِوَكِيلٍ
বাংলা অনুবাদ:
"নিশ্চয় আমি আপনার প্রতি সত্যসহ এই কিতাব মানুষের জন্য নাযিল করেছি; অতঃপর যে সৎপথ প্রাপ্ত হয়, সে নিজেরই মঙ্গলের জন্য সৎপথ প্রাপ্ত হয়, আর যে পথভ্রষ্ট হয়, সে নিজেরই ক্ষতির জন্য পথভ্রষ্ট হয়; আর আপনি তাদের জন্য দায়িত্বশীল নন।"
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা: কুরআন মানুষের জন্য সত্য পথনির্দেশিকা; হিদায়াত বা গুমরাহীর দায় প্রত্যেকের নিজস্ব।
২৫. সূরা আল-কাসাস (২৮:৮৫)
আরবি:
إِنَّ ٱلَّذِى فَرَضَ عَلَيْكَ ٱلْقُرْءَانَ لَرَآدُّكَ إِلَىٰ مَعَادٍ ۚ قُل رَّبِّىٓ أَعْلَمُ مَن جَآءَ بِٱلْهُدَىٰ وَمَنْ هُوَ فِى ضَلَـٰلٍ مُّبِينٍ
বাংলা অনুবাদ:
"নিশ্চয় যিনি আপনার উপর কুরআন অপরিহার্য করেছেন, তিনি আপনাকে প্রত্যাবর্তনস্থলের (কিয়ামত ও জান্নাতের) দিকে ফিরিয়ে আনবেন। বলুন: 'আমার রব ভালো জানেন কে হিদায়েত নিয়ে এসেছে এবং কে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় রয়েছে।'"
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা: আল্লাহ যিনি কুরআন নাযিল করেছেন, তিনিই রাসূলকে ও মানবজাতিকে কিয়ামতের দিন তাঁর দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন।
৩. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসসমূহ
ক. কুরআনের মর্যাদা ও মহিমা সংক্রান্ত হাদীস
১. সহীহ বুখারী, কিতাব ফাযাইলিল কুরআন:
হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ"
অনুবাদ: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো সে, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং শিক্ষা দেয়।"
২. সহীহ মুসলিম, কিতাব সালাতুল মুসাফিরীন:
হযরত আবু উমামা আল-বাহিলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত:
"اقْرَءُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَفِيعًا لِأَصْحَابِهِ"
অনুবাদ: "কুরআন পাঠ করো, কারণ কিয়ামতের দিন এটি তার পাঠকের জন্য সুপারিশকারী হবে।"
৩. সুনান আত-তিরমিযী, কিতাব ফাযাইলিল কুরআন:
হযরত আবদুল্লাহ ইবন মাস‘উদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত:
"مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ، وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا، لَا أَقُولُ الم حَرْفٌ، وَلَكِنْ أَلِفٌ حَرْفٌ وَلَامٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ"
অনুবাদ: "যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পাঠ করে, তার জন্য রয়েছে একটি নেকী, আর প্রতিটি নেকী দশগুণ করে প্রদান করা হবে। আমি বলি না যে ‘আলিফ-লাম-মীম’ একটি অক্ষর, বরং ‘আলিফ’ একটি অক্ষর, ‘লাম’ একটি অক্ষর, ‘মীম’ একটি অক্ষর।"
৪. সহীহ বুখারী:
হযরত উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত:
"إِنَّ اللَّهَ يَرْفَعُ بِهَذَا الْكِتَابِ أَقْوَامًا وَيَضَعُ بِهِ آخَرِينَ"
অনুবাদ: "নিশ্চয় আল্লাহ এই কিতাবের মাধ্যমে কিছু সম্প্রদায়কে উচ্চমর্যাদা দেন এবং অন্য কিছু সম্প্রদায়কে নিম্নমর্যাদা দেন।"
৫. মুসনাদ আহমাদ:
হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত:
"إِنَّهُ سَيَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ فِتَنٌ كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ، قِيلَ: الْخَطَأُ فِيهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: كِتَابُ اللَّهِ"
অনুবাদ: "নিশ্চয় শেষ যামানায় অন্ধকার রাতের টুকরোর মত ফিতনা আসবে। জিজ্ঞাসা করা হল: হে আল্লাহর রাসূল! তাতে নাজাতের উপায় কী? তিনি বললেন: আল্লাহর কিতাব।"
৬. সহীহ মুসলিম:
হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত:
"مَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ فِي بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِ اللَّهِ، يَتْلُونَ كِتَابَ اللَّهِ، وَيَتَدَارَسُونَهُ بَيْنَهُمْ، إِلَّا نَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ، وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ، وَحَفَّتْهُمُ الْمَلَائِكَةُ، وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ"
অনুবাদ: "কোনো সম্প্রদায় আল্লাহর ঘরসমূহের কোনো ঘরে সমবেত হয়ে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে ও পরস্পর তা অধ্যয়ন করে, তবে তাদের উপর প্রশান্তি নাযিল হয়, রহমত তাদেরকে ছেয়ে ফেলে, ফেরেশতারা তাদের ঘিরে ধরে এবং আল্লাহ তার নিকটস্থ (ফেরেশতাদের) কাছে তাদের উল্লেখ করেন।"
৭. সুনান ইবন মাজাহ:
হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত:
"إِنَّمَا مَثَلُ صَاحِبِ الْقُرْآنِ كَمَثَلِ الْإِبِلِ الْمُعَقَّلَةِ، إِنْ عَاهَدَ عَلَيْهَا أَمْسَكَهَا، وَإِنْ أَطْلَقَهَا ذَهَبَتْ"
অনুবাদ: "কুরআনের অধিকারী ব্যক্তির দৃষ্টান্ত হলো বাঁধা উটনীর মত; যদি সে তা বেঁধে রাখে তবে ধরে রাখবে, আর যদি ছেড়ে দেয় তবে চলে যাবে।"
খ. কুরআনের মু‘জিযা ও চ্যালেঞ্জ সংক্রান্ত বিশেষ হাদীস
৮. মুসনাদ আহমাদ:
হযরত আবু সা‘ঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত:
"لَمَّا أُنْزِلَتْ: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَসাল্লাম: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّهَا لَتَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ"
অনুবাদ: "যখন সূরা আল-ইখলাস (‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’) নাযিল হল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয় এটি এক-তৃতীয়াংশ কুরআনের সমতুল্য।"
৯. সহীহ বুখারী:
হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত:
"لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُقَاتِلَ الْمُسْلِمُونَ الْيَهُودَ، فَيَقْتُلُهُمُ الْمُسْلِمُونَ حَتَّى يَخْتَبِئَ الْيَهُودِيُّ مِنْ وَرَاءِ الْحَجَرِ وَالشَّجَرِ"
অনুবাদ: "কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবে না, যতক্ষণ না মুসলিমগণ ইহুদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং মুসলিমগণ তাদের হত্যা করে, এমনকি ইহুদী পাথর ও গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকে।"
১০. সহীহ বুখারী:
হযরত আবদুল্লাহ ইবন মাস‘উদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত:
"إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ مَأْدُبَةُ اللَّهِ فَتَعَلَّمُوا مِنْ مَأْدُبَةِ اللَّهِ মَا اسْتَطَعْتُمْ"
অনুবাদ: "নিশ্চয় এই কুরআন আল্লাহর দাওয়াত (ভোজ), অতএব তোমরা আল্লাহর দাওয়াত থেকে যতটুকু পারো শিক্ষা গ্রহণ করো।"
১১. সুনান আত-তিরমিযী:
হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত:
"هَلَكَ مَنْ لَيْسَ فِي جَوْفِهِ شَيْءٌ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ"
অনুবাদ: "ধ্বংস হয়েছে সে, যার অন্তরে আল্লাহর কিতাবের কিছুই নেই।"
১২. মুসনাদ আহমাদ:
হযরত জাবির ইবন আবদিল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত:
"الْقُرْآنُ شَافِعٌ مُشَفَّعٌ، وَمَاحِلٌ مُصَدَّقٌ، مَنْ جَعَلَهُ أَمَامَهُ قَادَهُ إِلَى الْجَنَّةِ، وَمَنْ جَعَلَهُ خَلْفَهُ سَاقَهُ إِلَى النَّارِ"
অনুবাদ: "কুরআন সুপারিশকারী, যার সুপারিশ কবুল করা হবে এবং প্রমাণকারী, যার প্রমাণ সত্য বলে গৃহীত হবে। যে ব্যক্তি তাকে নিজের সামনে রাখবে (পথনির্দেশকরূপে), সে তাকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি তাকে পিছনে রাখবে (অবহেলা করবে), সে তাকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেবে।"
১৩. সহীহ বুখারী:
হযরত আবু মূসা আল-আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত:
"مَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ مَثَلُ الْأُتْرُجَّةِ، رِيحُهَا طَيِّبٌ وَطَعْمُهَا طَيِّبٌ"
অনুবাদ: "কুরআন পাঠকারী মুমিনের দৃষ্টান্ত হলো ‘উতরুজ্জা’ (বিশেষ ধরণের কমলা/বাতাবি লেবু)-এর মত, যার সুগন্ধও ভালো এবং স্বাদও ভালো।"
১৪. সহীহ মুসলিম:
হযরত ‘আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত:
"الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَهُوَ مَاهِرٌ بِهِ مَعَ السَّفَرَةِ الْكِرَامِ الْبَرَرَةِ، وَالَّذِي يَقْرَؤُهُ وَهُوَ عَلَيْهِ شَاقٌّ لَهُ أَجْرَانِ"
অনুবাদ: "যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তাতে দক্ষ (সুন্দর কণ্ঠে তিলাওয়াতকারী), সে সম্মানিত, নেক ফেরেশতাদের সাথে থাকবে। আর যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তাতে কষ্ট বোধ করে (বিছ্ছিন্নভাবে, রোধ হয়ে), তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব।"
১৫. সুনান আবু দাউদ:
হযরত আবদুল্লাহ ইবন ‘আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত:
"يُقَالُ لِصَاحِبِ الْقُرْآنِ: اقْرَأْ وَارْتَقِ وَرَتِّلْ كَمَا كُنْتَ تُرَتِّلُ فِي الدُّنْيَا، فَإِنَّ مَنْزِلَكَ عِنْدَ آخِرِ آيَةٍ تَقْرَؤُهَا"
অনুবাদ: "কুরআনের অধিকারী (তিলাওয়াতকারী) ব্যক্তিকে বলা হবে: (আখেরাতে) পাঠ করতে থাকো এবং (জান্নাতের মর্যাদায়) উঠতে থাকো এবং ঠিক যেমন দুনিয়াতে সুস্পষ্টভাবে পাঠ করতে, ঠিক তেমনিভাবে পাঠ করো। কারণ তোমার (জান্নাতে) মর্যাদা হবে সেই শেষ আয়াত পর্যন্ত, যা তুমি পাঠ করবে।"
১৬. সহীহ বুখারী:
হযরত উসমান ইবন ‘আফফান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত:
"إِنَّ أَفْضَلَكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ"
অনুবাদ: "নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং শিক্ষা দেয়।"
১৭. সহীহ মুসলিম:
হযরত উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত:
"إِنَّ اللَّهَ يَرْفعُ بِهَذَا الْكِتَابِ أَقْوَامًا وَيَضَعُ بِهِ آخَرِينَ"
অনুবাদ: "নিশ্চয় আল্লাহ এই কিতাবের দ্বারা কিছু সম্প্রদায়কে উচ্চ করেন এবং অন্য কিছু সম্প্রদায়কে নিচু করেন।"
১৮. সুনান আত-তিরমিযী:
হযরত আবদুল্লাহ ইবন ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত:
"الْحَبْرُ الَّذِي فِي الْقُرْآنِ"
অনুবাদ: "কুরআনে রয়েছে গভীর জ্ঞান।"
১৯. মুসনাদ আহমাদ:
হযরত মু‘আয ইবন জাবাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত:
"تَعَلَّمُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ رَبِيعُ الْقُلُوبِ"
অনুবাদ: "কুরআন শিক্ষা করো, কারণ তা অন্তরসমূহের বসন্ত।"
২০. সহীহ বুখারী, হাদিস নং: ৭৪২৮
হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত:
الحديث:"يَجِيءُ الْقُرْآنُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَقُولُ: يَا رَبِّ حَلِّهِ، فَيُلْبَسُ تَاجَ الْكَرَامَةِ، ثُمَّ يَقُولُ: يَا رَبِّ زِدْهُ، فَيُلْبَسُ حُلَّةَ الْكَرَامَةِ"
সঠিক অনুবাদ:
"কুরআন কিয়ামতের দিন আসবে এবং (তার পাঠক সম্পর্কে) বলবে: 'হে রব! তাকে সজ্জিত করুন।' তখন তাকে সম্মানের মুকুট পরানো হবে। অতঃপর বলবে: 'হে রব! তাকে আরো দিন।' তখন তাকে সম্মানের পোশাক পরানো হবে।"
২১. সুনান ইবন মাজাহ, হাদিস নং: ২১৫
হযরত আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত:
الحديث:"إِنَّ لِلَّهِ أَهْلِينَ مِنَ النَّاسِ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَنْ هُمْ؟ قَالَ: أَهْلُ الْقُرْآنِ، هُمْ أَهْلُ اللَّهِ وَخَاصَّتُهُ"
সঠিক অনুবাদ:
"নিশ্চয় আল্লাহর জন্য মানুষের মধ্যে বিশেষ জনগণ আছেন। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন: 'হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা?' তিনি বললেন: 'আহলুল কুরআন (কুরআনের সাথে সম্পৃক্ত লোকেরা), তারাই আল্লাহর বিশেষ মানুষ ও তাঁর নিকটবর্তী বান্দা।'”
২২. সহীহ মুসলিম:
হযরত ‘উকবাহ ইবন ‘আমির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত:
"أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِخَيْرِكُمْ؟ قَالُوا: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ"
অনুবাদ: "আমি কি তোমাদেরকে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সম্পর্কে জানাবো? তারা বললেন: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং শিক্ষা দেয়।"
২৩. সহীহ বুখারী:
হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত:
"الْقُرْآنُ حُجَّةٌ لَكَ أَوْ عَلَيْكَ"
অনুবাদ: "কুরআন তোমার পক্ষে প্রমাণ হবে অথবা বিপক্ষে।"
২৪. মুসনাদ আহমাদ:
হযরত আবদুল্লাহ ইবন মাস‘উদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত:
"مَنْ أَحَبَّ أَنْ يَعْلَمَ أَنَّهُ يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَلْيَنْظُرْ، فَإِنْ كَانَ يُحِبُّ الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ"
অনুবাদ: "যে ব্যক্তি জানতে চায় যে সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে কি-না, সে যেন লক্ষ্য করে। যদি সে কুরআনকে ভালোবাসে, তবে সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে।"
২৫. সুনান আত-তিরমিযী:
হযরত আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত:
"مَا مِنْ رَجُلٍ يَتَعَلَّمُ الْقُرْآنَ ثُمَّ يَنْسَاهُ إِلَّا لَقِيَ اللَّهَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَجْذَمَ"
অনুবাদ: "কোনো ব্যক্তি কুরআন শিক্ষা করার পর যদি তা (অবহেলা বা তিলাওয়াত ত্যাগের কারণে) ভুলে যায়, তবে সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় মিলিত হবে যে সে কুষ্ঠরোগী (বা বঞ্চিত ও অসহায়) হবে।"
সূত্র: এই বর্ণনাটি সুনান আবু দাউদ, সুনান আত-তিরমিযী, সুনান ইবন মাজাহ ও মুসনাদ আহমাদে বিভিন্ন সনদে বর্ণিত হয়েছে। কিছু মুহাদ্দিস একে দুর্বল বলেছেন, আবার কিছু একে হাসান বলেছেন।
এই হাদীসের ব্যাখ্যা ও বিবরণ:
১. "أَجْذَمَ" শব্দের আক্ষরিক অর্থ "কুষ্ঠরোগী", কিন্তু এখানে এর রূপক ব্যবহার হয়েছে, যার অর্থ হলো: বঞ্চিত, ক্ষতিগ্রস্ত, শাস্তিগ্রস্ত বা অপমানিত। এটি কুরআন ভুলে যাওয়ার শাস্তির তীব্রতা বর্ণনার জন্য একটি উপমা।
২. "يَنْسَاهُ" দ্বারা শুধু সাধারণ ভুলে যাওয়া বোঝায় না, বরং অবহেলা, তিলাওয়াত ত্যাগ করা বা ইচ্ছাকৃতভাবে কুরআন ছেড়ে দেওয়া-এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
৩. এই হাদীস কুরআন মাজীদের শিক্ষা গ্রহণ ও তার উপর আমল করার তাগ


